কম্পিউটার, তথ্য প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি- সংজ্ঞা, ব্যবহার এবং গুরুত্ব।
“কম্পিউটার হলো একটি মেশিন যাকে কোন নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রন করে থাকে এবং প্রোগ্রামের চাহিদানুযায়ী ডাটা ইনপুট হিসেবে প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রোগাম ডাটা প্রক্রিয়াকরণ করে এবং ব্যবহারকারীর চাহিদানুযায়ী তথ্যরূপে আউটপুট প্রদান করে থাকে।”
কম্পিউটার, তথ্য প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: ব্যাংকিং ডিপ্লোমা, আইটি (AIBB IT)
কম্পিউটার কি?
বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে কম্পিউটারের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। যেমন:
সি.এস. ফ্রেঞ্চ (C.S. French) বলেন:
“A computer is a device which can accept data, process data & output data”
অর্থাৎ, কম্পিউটার একটি ডিভাইস যা ডাটা গ্রহন করে, প্রক্রিয়াকরণ করে এবং ডাটা প্রদান করে থাকে।
অন্যভাবে বলা যেতে পারে,
“Computer is a machine which is controlled by some programs, accept data as input, process them and finally submit result or required information to the users as desired format”
“কম্পিউটার হলো একটি মেশিন যাকে কোন নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রন করে থাকে এবং প্রোগ্রামের চাহিদানুযায়ী ডাটা ইনপুট হিসেবে প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রোগাম ডাটা প্রক্রিয়াকরণ করে এবং ব্যবহারকারীর চাহিদানুযায়ী তথ্যরূপে আউটপুট প্রদান করে থাকে।”
যেমন: ধরা যাক কোন গ্রাহক ব্যাংকে টাকা জমা করবেন অথবা তার ব্যক্তিগত হিসাব হতে টাকা উত্তোলন করবেন। যে কোনটিই হতে পারে। এক্ষেত্রে গ্রাহক যে টাকা জমা করবেন বা উত্তোলন করবেন তা অবশ্যই ক্যাশ কাউন্টারের মাধ্যমে হতে হবে। এক্ষেত্রে ক্যাশিয়ার টাকার পরিমান কম্পিউটারে প্রদান করবেন যা কম্পিউটার প্রোগামের জন্য অথবা কম্পিউটারের জন্য ইনপুট ডাটা। এখন ব্যাকিং সফটওয়্যার এই ডাটা প্র্রক্রিয়াকরণ করবে এবং গ্রাহকের ব্যক্তিগত হিসাবে টাকা জমা করলে টাকার পরিমান বেশী দেখাবে অথবা উত্তোলন করলে কম দেখাবে। এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের সম্পূর্ন হিসেবে টাকা কম বেশী দেখাবে জমা ও উত্তোলনের ওপর নির্ভর করে।
নোট: “Program” কম্পিউটারের নিজস্ব ভাষার কিছু নির্দেশনা। যা সাধারনত বাইনারী কোড এ হয়ে থাকে। যারা কম্পিউটারের ভাষায় এই কোড লিখে থাকেন তাদের বলা হয় “Programmer” ।
“Device” এর কোন বাংলা অর্থ প্রকৃতভাবে হয় না। তথ্য-প্রযুক্তির জগতে “Device” বলতে ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রাংশকে বুঝানো হয়ে থাকে।
তথ্য প্রযুক্তি কি?
“Information Technology” সংক্ষেপে IT, যার অর্থ “তথ্য প্রযুক্তি”।
সি.এস. ফ্রেঞ্চ (C.S. French) বলেন:
“Information Technology (IT) is the technology which supports activities involving the creation, storage, manipulation and communication of information, together with their related methods, management and application.”
“তথ্য প্রযুক্তি হল এমন একটি প্রযুক্তি যা সমর্থন করে তথ্য তৈরি, স্টোর, নিপূণ ব্যবহার এবং তথ্য যোগাযোগের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন পদ্ধতি, ব্যবস্থাপনা সাথে জড়িত কার্যকলাপ।”
সেক্ষেত্রে বলা যায় তথ্য প্রযুক্তি শুধুমাত্র তথ্যের সংরক্ষন বা প্রক্রিয়াজাতকরণ-ই করে না যোগাযোগের মাধ্যমে এক স্থান হতে অন্য এক বা একাধিক স্থানে তথ্যের স্থানান্তর করে। তখন “তথ্য-প্রযুক্তি” শব্দটি হয়ে যায় “তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি”।
তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি কি?
“Information & Communication Technology” বা তথ্য প্রযুক্তি বলতে তথ্য, কম্পিউটার সিস্টেমস (যেমন:কম্পিউটার বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যার), সফটওয়্যার (যেমন: এ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, ডাটাবেইজ সফটওয়্যার) এবং তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থাকে (যেমন: নেটওয়ার্ক এবং নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা) বুঝান হয়ে থাকে। এসকল কিছু সমন্বিতভাবে ব্যবহারকারী (User/People) এবং প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল বিশ্বের সাথে সংযুক্ত করে থাকে।
নোট: “System” বাংলা অর্থ “ব্যবস্থা” । আসলে কম্পিউটার কোন একক বস্তু না। কম্পিউটার অনেক গুলো ছোট ছোট অংশ নিয়ে গঠিত হয়ে এককভাবে কাজ করে থাকে। যেমন: সিপিইউ, কিবোর্ড, মাউস, মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক, প্রসেসর, র্যাম ইত্যাদি আরও অনেক। কম্পিউটার সিস্টেমস বলতে এসকল কিছুর সমন্বয়কে বুঝানো হয়ে থাকে।
তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গুরুত্ব:
বর্তমান আধুনিক ব্যাংকিংয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) ব্যবহার গ্রাহক সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। আইসিটি এর যে বৈশিষ্ট্যগুলি আর্থিক পরিষেবায় অবদান রেখেছ তা নীচে আলোচনা করা হলো:
উচ্চ গতি: কম্পিউটার খুব উচ্চ গতিতে কাজ করতে পারে। একটি কম্পিউটার মাত্র কয়েক মিনিটে একজন মানুষের কয়েক বছরের কাজ শেষ করতে পারে।
যে কোন মূহুর্তে সহজলভ্য পরিষেবা: ব্যাংকিং পরিষেবাগুলিতে আইসিটি প্রবর্তনের আগে, গ্রাহকদের শুধুমাত্র কার্যদিবসের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে সমস্ত লেনদেন সম্পন্ন করতে হতো।
এখন একজন গ্রাহক দিনে ২৪ ঘন্টা, বছরে ৩৬৫ দিন ব্যাংকিং পরিষেবা পেতে পারেন। একজন গ্রাহক যে কোনো সময় টাকা তোলার জন্য এটিএম ব্যবহার করতে পারেন।
ব্যাংকের ডেটা সেন্টারের কম্পিউটারগুলি সর্বদা চলমান থাকে এবং এইভাবে গ্রাহকদের ব্যালেন্স তাৎক্ষনাত আপডেট করতে পারে। অন্যদিকে ব্যাংকাররা যথাসময়ে সমস্ত কার্যকলাপের রিপোর্ট (যেমন কে টাকা উত্তোলন করেছে, পরিমাণ কত এবং কোথা থেকে উত্তোলন করেছে ইত্যাদি) পেতে পারে।
ইন্টারনেট ব্যাংকিং সিস্টেম ব্যবহার করে, একজন গ্রাহক তার অফিস বা বাড়ি থেকে যেকোনো সময় ব্যাংকিং করতে পারেন। গ্রাহকরা দোকান থেকে পণ্য ও পরিষেবা কিনতে পারেন এবং যে কোনো সময় দোকানে তার ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং পজ (POS: Point Of Sale) টার্মিনাল ব্যবহার করে অনলাইনে বিল পরিশোধ করতে পারেন।
একজন গ্রাহক তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারেন এবং যেকোনো সময় কিছু লেনদেন করতে পারেন।
যে কোন স্থানে সহজলভ্য পরিষেবা: ব্যাংকিং পরিষেবায় আইসিটি প্রবর্তনের আগে, একজন গ্রাহককে ব্যাংকিং পরিষেবা পাওয়ার জন্য স্বশরীরে একটি শাখায় যেতে হত। এখন গ্রাহক তার ইচ্ছামতো যেকোন জায়গা থেকে ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবেন।
তিনি যেখানেই অ্যাকাউন্ট খুলেছেন শুধু সেখানে নয়, তিনি যে কোনও শাখায় যেতে পারেন এবং সম্পূর্ন পরিষেবা গ্রহন করতে পারেন । তিনি যেকোনো শহরের এটিএম-এ (ATM: Automated Teller Machine) গিয়ে টাকা তুলতে পারবেন, ব্যালেন্স চেক করতে পারবেন, মিনি স্টেটমেন্ট প্রিন্ট করতে পারবেন, টাকা জমা দিতে পারবেন এবং ইউটিলিটি বিল দিতে পারবেন।
গ্রাহক বিশ্বের যেকোনো শহরের যেকোনো দোকানে গিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে পণ্য ও সেবা কিনতে পারবেন। তিনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে তার ব্যক্তিগত হিসাব নিয়ন্ত্রন করতে পারেন।
সঠিকতা: কম্পিউটার (যা আইসিটির একটি মূল উপাদান) ১০০% নির্ভুলতার সাথে কাজ করতে পারে যদি প্রোগ্রাম এবং সরবরাহকৃত ডেটা সঠিকভাবে প্রদান করা হয়ে থাকে।
“আবর্জনা প্রদান করলে আবর্জনা বের হবে”
কম্পিউটারের জন্য খুবই সত্য। কম্পিউটারের কখনই ভুল হতে পারে না। তবে ডেটা ভুল হলে বা প্রোগ্রামিং লজিক ভুল হলে কম্পিউটার ভুল ফলাফল দিতে পারে। যদি একজন গ্রাহক টাকা ১০০/- উত্তোলন করেন এবং টেলার কম্পিউটারে, ১০০/- টাকার পরিবর্তে ১০০০/- টাকা পোস্ট করলে গ্রাহকের হিসাব ভুলভাবে হালনাগাদ হবে। এটি কম্পিউটারের জন্য ত্রুটি নয় কারণ ডেটা ভুলভাবে সরবরাহ করা হয়েছিল৷
স্মৃতি: কম্পিউটারের স্মৃতি ভান্ডার অনেক বড় – এটি প্রচুর পরিমাণে ডেটা সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়া করতে পারে। এর স্টোরেজ একটি বড় লাইব্রেরির স্টোরেজের চেয়ে বেশি। এটি কয়েক বছর ধরে গ্রাহকের ডেটা সংরক্ষণ করতে পারে। কম্পিউটার খুব দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে স্টোরেজ থেকে ডেটা পুনরুদ্ধার করতে পারে।
অধ্যবসায়ী: কম্পিউটার ক্লান্তিহীনভাবে একটানা দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারে যা একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। ব্যাংকের কম্পিউটার সার্ভার একবার শুরু হয়ে একসাথে বছরের পর বছর চালু থাকে। এ কারণে এটিএম, পজ (POS: Point Of Sale) টার্মিনাল, ইন্টারনেট ব্যাকিং, ই-কমার্স ইত্যাদি ব্যাকিং পরিষেবার জন্য অবিরাম ২৪/৭ পরিষেবা সম্ভব।
ইন্টারফেসিং: ইন্টারফেসিং (Interfacing) হল একটি সিস্টেমের সাথে আইসিটির অন্য সিস্টেমের সাথে যোগাযোগ করার উপায়। যেমন: একটি ব্যাংকের আইটি সিস্টেমর সাথে অন্য ব্যাংকের আইটি সিস্টেমর যোগাযোগ। এভাবে মালয়েশিয়ার ‘ক ব্যাংক’-এর একজন গ্রাহক তার ভিসা বা মাস্টারকার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে ‘খ ব্যাংক’-এর এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারবেন। অন্যদিকে ‘খ ব্যাংক’-এর একজন গ্রাহক তার মাস্টারকার্ড বা ভিসা কার্ড ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি দোকানে কেনাকাটার বিল পরিশোধ করতে পারেন।
