কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং ডিভাইস

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং ডিভাইস || ব্যাংকিং ডিপ্লোমা, আইটি (AIBB IT)

ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষার জন্য “কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং ডিভাইস” একটি গুরুত্বপূর্ণ আইটি বিষয়। কম্পিউটার হার্ডওয়্যার বলতে কম্পিউটারের দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য অংশকে বোঝায়, যার মাধ্যমে তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ এবং ফলাফল প্রদর্শন করা হয়। কীবোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার, স্ক্যানার, প্রসেসর, RAM, হার্ডডিস্ক ও মাদারবোর্ড এর প্রধান উদাহরণ। ব্যাংকিং খাতে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও ডিভাইস গ্রাহকসেবা, হিসাব সংরক্ষণ, অনলাইন ব্যাংকিং, এটিএম সেবা এবং দ্রুত তথ্য প্রক্রিয়াকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ব্যাংকিং পেশায় দক্ষতা অর্জনের জন্য কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং ডিভাইস সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং ডিভাইস: ব্যাংকিং ডিপ্লোমা, আইটি (AIBB IT)

কম্পিউটারের ডিভাইসকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে, যেমন:

১.ইনপুট ডিভাইস।

২.আউটপুট ডিভাইস।

৩.প্রসেসিং ডিভাইস।

৪.মেমরি ডিভাইস।

৫.বিশেষ ডিভাইস।

ইনপুট ডিভাইস:

কম্পিউটারে তথ্য, উপাত্ত এবং নির্দেশনা ইনপুট করার জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস বা অংশগুলিকে ইনপুট ডিভাইস বলা হয়। কীবোর্ড, মাউস, জয়স্টিক, স্ক্যানার, ডিজিটাল ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ইত্যাদি ইনপুট ডিভাইসের উদাহরণ।

  • কী-বোর্ড: এটা কম্পিউটারের জন্য প্রথম সারির ইনপুট ডিভাইস। কী-বোর্ডে ১০৪ থেকে ১১০ টি কি বা বাটন থাকে। এই কী গুলি মূলত অক্ষর এবং সংখ্যা টাইপ করতে এবং কম্পিউটারে নির্দেশাবলী প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। কী-বোর্ড তারযুক্ত বা তারহীন হয়ে থাকে। তারযুক্ত কী-বোর্ড তার বা কেবলের মাধ্যমে কম্পিউটারের মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত থাকে।
  • মাউস: মাউস হল গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারেফেস (Graphical User Interface) ভিত্তিক একটি ইনপুট ডিভাইস। মাউস প্রধানত উইন্ডোজ বা ম্যাকিনটোশ অপারেটিং সিস্টেমে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। মাউসে বাম বাটন, ডান বাটন এবং কখনও কখনও স্ক্রল চাকা থকে। এই বাটন ব্যবহার করে কোন টাইপ না করে শুধু মাত্র বাটনে ক্লিক করে কম্পিউটারে নির্দেশনা প্রদান করা হয়ে থাকে।

আউটপুট ডিভাইস:

কম্পিউটারে সকল ডাটা-তথ্য প্রক্রিয়াকরণের পর আউটপুট ডিভাইসের মাধ্যমে ফলাফল প্রদান করা হয়ে থাকে। আউটপুট ডিভাইসের উদাহরণ: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার এবং প্লটার ইত্যাদি।

মনিটর: সরবরাহকৃত তথ্য এবং ডেটা প্রক্রিয়াকরণের ফলাফল মনিটর নামক একটি টিভির মতো ডিভাইসে পাঠ্য, গ্রাফ বা ছবি ব্যবহার করে প্রদর্শিত হয়। মনিটর একটি ডেটা কেবল ব্যবহার করে কম্পিউটারের সিস্টেম বোর্ডের সাথে সংযুক্ত থাকে। মনিটরে, একটি পৃথক পাওয়ার সংযোগ প্রয়োজন হয়।

মূলত মনিটর হল একটি ইলেকট্রনিক আউটপুট ডিভাইস যা কম্পিউটারে প্রবেশ করা এবং প্রক্রিয়াকরণ করা তথ্য প্রদর্শন করতে ব্যবহৃত হয়। মনিটরের প্রাথমিক কাজ হল কম্পিউটারের ভিডিও কার্ডের মাধ্যমে কম্পিউটার দ্বারা উৎপন্ন ছবি, পাঠ্য, ভিডিও এবং গ্রাফিক্স তথ্য প্রদর্শন করা।

প্রিন্টার: কম্পিউটারের আউটপুট কাগজে প্রিন্ট করা হয় প্রিন্টার নামক একটি ডিভাইস ব্যবহার করে। প্রিন্টার ডেটা কেবল ব্যবহার করে কম্পিউটারের সিস্টেম বোর্ডের বা মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং অন্য আরেকটি পাওয়ার কেবলের মাধ্যমে প্রিন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। প্রিন্টার দুই ধরণের :

  • ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার এবং
  • লেজার প্রিন্টার।

ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারের একটি “হেড” থাকে যা একটি রিবনের উপর আঘাত করে। রিবনের এই কালি কাগজে বিভিন্ন ধরনের অক্ষর, বিশেষ অক্ষর এবং অঙ্ক তৈরি করে। এপসন ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার, এপসন লাইন প্রিন্টার হল ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টারের উদাহরণ।

লেজার প্রিন্টারে, হেডের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের অক্ষর, বিশেষ অক্ষর এবং অঙ্ক তৈরি করতে লেজার রশ্মি ব্যবহৃত হয়। লেজার প্রিন্টারে, রিবনের পরিবর্তে, কালি সরবরাহের জন্য টোনার ব্যবহার করা হয়। ইংক জেট প্রিন্টার এবং ক্যানন লেজার প্রিন্টার হল লেজার প্রিন্টারের উদাহরণ।

স্পিকার: গান শোনার সময় বা ভিডিও দেখার সময় শব্দ শুনতে স্পিকার ব্যবহার করা হয়।

প্লটার: কম্পিউটার থেকে অংকন প্রিন্ট করার জন্য প্লটার ব্যবহার করা হয়। প্লটার বড় ছবি, পোস্টার, ক্যালেন্ডার এবং মানচিত্র প্রিন্ট করার জন্যও ব্যবহৃত হয়।

প্রসেসিং ডিভাইস:

কম্পিউটারে সরবরাহিত উপাত্ত, তথ্য এবং নির্দেশাবলী প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত ডিভাইসগুলিকে প্রসেসিং ডিভাইস বলা হয়। সিপিইউ বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট হল কম্পিউটারে ব্যবহৃত একটি প্রক্রিয়াকরণ ডিভাইস। এটি কম্পিউটারের সমস্ত প্রক্রিয়াকরণ কাজ সম্পাদন করে। সিপিইউ মানুষের মস্তিষ্কের মতো। কম্পিউটারের প্রক্রিয়াকরণের গতি এবং ক্ষমতা তার সিপিইউর উপর নির্ভর করে। আমরা বর্তমানে কম্পিউটারের সিপিইউ বলতে মাইক্রোপ্রসেসরকে বুঝি। ১৯৭১ সালে, ইন্টেল কোম্পানি কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য মাইক্রোপ্রসেসর আবিষ্কার করে। এটিকে ৮০০৮ মাইক্রোপ্রসেসর বলা হত। এরপর ১৯৭৬ সালে অ্যাপল এবং ১৯৮১ সালে আইবিএম মাইক্রোপ্রসেসর তৈরি করে।

একটি সিপিইউ বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং এর কার্যকারিতা নিচে বর্ণনা করা হল:

১. সিপিইউ বা সেন্ট্রাল প্রসেসিং কম্পিউটারের সকল অংশে নিয়ন্ত্রণ এবং সময় নির্ধারণকারী সংকেত প্রেরণ করে।

২. মেমোরি এবং ইনপুট/আউটপুট ডিভাইসের মধ্যে ডেটা প্রেরণ এবং গ্রহণ করে।

৩. মেমোরি থেকে ডেটা এবং নির্দেশাবলী গ্রহণ করে।

৪. নির্দেশাবলী ডিকোড করে।

৫. গাণিতিক এবং যৌক্তিক কার্যকলাপ সম্পাদন করে।

৬. কম্পিউটার মেমোরি থেকে প্রোগ্রাম চালু করে।

৭. ইনপুট এবং আউটপুট ডিভাইসের কাজর মধ্যে সমন্বয় করে।

স্থাপত্যের উপর ভিত্তি করে, একটি মাইক্রোপ্রসেসরকে CISC (Complex Instruction Set Computer) প্রসেসর এবং RISC (Reduced Instruction Set Computer) প্রসেসর এই দুটি গ্রুপে ভাগ করা যায়।

CISC বা Complex Instruction Set Computer হল এমন মাইক্রোপ্রসেসর যা মাইক্রোকোড ব্যবহার করে। মাইক্রোকোডে কিছু নির্দেশাবলী (প্রোগ্রাম) থাকে যা চিপের ভিতর থেকে কাজ করে। এই ধরণের মাইক্রোপ্রসেসর সফ্টওয়্যার দ্বারা চালিত হওয়ায়, এগুলি সাধারণত ধীর গতির হয়। CISC (Complex Instruction Set Computer) মাইক্রোপ্রসেসরের উদাহরণ হল: 8085, 8086, 8088, 80286, 80386SX, 80386DX, 80486SX, 80486DX এবং ইন্টেলের পেন্টিয়াম, AMD এর 386DX, 486DX, Motorola এর 6800, 68000, 68040।

RISC বা Reduced Instruction Set Computer হল এমন মাইক্রোপ্রসেসর যেখানে কম সংখ্যক নির্দেশাবলী সেট ব্যবহার করা হয়। এটি সফটওয়্যার ভিত্তিক নয়, বরং হার্ডওয়্যার ভিত্তিক এবং CISC প্রসেসরের চেয়ে দ্রুত। ব্যাংকগুলি সাধারণত ডেটা সেন্টারে RISC প্রসেসর-ভিত্তিক কম্পিউটারগুলিকে তাদের প্রধান ডাটাবেস সার্ভার হিসাবে ব্যবহার করে। সাধারণত এই ধরনের RISC সার্ভারগুলির অপারেটিং সিস্টেম হিসাবে Unix ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, IBM RISC সার্ভারগুলির জন্য AIX, SUN RISC সার্ভারগুলির জন্য Sun Solaris এবং HP RISC সার্ভারগুলির জন্য HP-UX অপারেটিং সিস্টেম হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

উপসংহার

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং ডিভাইস আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির একটি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কম্পিউটারের দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য যন্ত্রাংশ যেমন কীবোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার, প্রসেসর, RAM, হার্ডডিস্ক ও মাদারবোর্ডের সমন্বয়ে একটি কম্পিউটার সঠিকভাবে কাজ করে। এসব হার্ডওয়্যার ও ডিভাইস তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ এবং ফলাফল প্রদর্শনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ব্যাংকিং খাতে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং ডিভাইসের ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হিসাব সংরক্ষণ, গ্রাহকসেবা, এটিএম, অনলাইন ব্যাংকিং এবং দ্রুত তথ্য ব্যবস্থাপনায় এগুলো সরাসরি ব্যবহৃত হয়। তাই ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষার্থী ও ব্যাংকিং পেশাজীবীদের জন্য কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং ডিভাইস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং ডিভাইস:FAQ

১. কম্পিউটার হার্ডওয়্যার কাকে বলে?

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য অংশ, যা কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজ সম্পাদনে ব্যবহৃত হয়। যেমন: কীবোর্ড, মাউস, মনিটর, CPU, RAM, হার্ডডিস্ক ও মাদারবোর্ড।

২. কম্পিউটার ডিভাইস কাকে বলে?

কম্পিউটার ডিভাইস হলো এমন যন্ত্র বা উপকরণ, যার মাধ্যমে কম্পিউটারে তথ্য প্রবেশ করানো, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ বা ফলাফল প্রদর্শন করা হয়।

৩. কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের প্রধান প্রকারভেদ কী কী?

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার সাধারণত চার ভাগে ভাগ করা যায়: ইনপুট ডিভাইস, আউটপুট ডিভাইস, স্টোরেজ ডিভাইস এবং প্রসেসিং ডিভাইস।

৪. ইনপুট ডিভাইস কী?

যেসব ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটারে তথ্য বা নির্দেশনা প্রবেশ করানো হয়, সেগুলোকে ইনপুট ডিভাইস বলে। যেমন: কীবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, মাইক্রোফোন।

৫. আউটপুট ডিভাইস কী?

যেসব ডিভাইস কম্পিউটারের প্রক্রিয়াকৃত তথ্য ব্যবহারকারীর কাছে প্রদর্শন করে, সেগুলোকে আউটপুট ডিভাইস বলে। যেমন: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার, প্রজেক্টর।

৬. স্টোরেজ ডিভাইস কী?

যেসব ডিভাইস তথ্য, ফাইল, সফটওয়্যার ও ডেটা সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে স্টোরেজ ডিভাইস বলে। যেমন: হার্ডডিস্ক, SSD, পেনড্রাইভ, মেমোরি কার্ড।

৭. প্রসেসিং ডিভাইস কী?

যেসব ডিভাইস কম্পিউটারের তথ্য প্রক্রিয়াকরণে কাজ করে, সেগুলোকে প্রসেসিং ডিভাইস বলে। CPU বা প্রসেসর হলো প্রধান প্রসেসিং ডিভাইস।

৮. RAM কী ধরনের হার্ডওয়্যার?

RAM একটি প্রাথমিক মেমোরি বা অস্থায়ী স্টোরেজ ডিভাইস। কম্পিউটার চালু থাকা অবস্থায় এটি তথ্য সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করে এবং দ্রুত কাজ করতে সাহায্য করে।

৯. হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য কী?

হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের স্পর্শযোগ্য অংশ, যেমন মনিটর, কীবোর্ড ও CPU। সফটওয়্যার হলো নির্দেশনা বা প্রোগ্রাম, যা হার্ডওয়্যারকে কাজ করতে সাহায্য করে। যেমন: অপারেটিং সিস্টেম, MS Word, ব্রাউজার।

১০. ব্যাংকিং খাতে কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের ব্যবহার কী?

ব্যাংকিং খাতে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার হিসাব সংরক্ষণ, গ্রাহক তথ্য ব্যবস্থাপনা, এটিএম সেবা, অনলাইন ব্যাংকিং, রিপোর্ট তৈরি এবং দ্রুত লেনদেন প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত হয়।

আপনি যদি ভাল Cover Letter, Resume, CV পেতে চান, তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

আরও জানতে ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন এখানে

https://bitbytestory.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*