Information Warfare বা তথ্য-যুদ্ধ নিয়ে কিছু কথা, জেনে রাখা ভাল:)
“Information Warfare” বা তথ্য-যুদ্ধ
Information Warfare বা তথ্য যুদ্ধ, সংক্ষেপে Infowar। তথ্য-যুদ্ধ বলতে বুঝায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ওপর সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়া। আর এই যুদ্ধের অস্ত্রগুলি হচ্ছে:
| ০১ | ভাইরাস (Virus), | ০৬ | ন্যানো মেশিন (Nano Machine), |
| ০২ | ওর্মস (Worms), | ০৭ | মাইক্রোবটস (Microbots), |
| ০৩ | ট্রোজান হর্স (Trojan Horse), | ০৮ | ইলেক্ট্রনিক জ্যামিং (Electronic Jamming), |
| ০৪ | লজিক বম্ব (Logic Bomb), | ০৯ | পেনিট্রেশন এক্সপ্লোয়েট (Penetration Exploit), |
| ০৫ | ট্র্যাপ ডোর (Trap Door), | ১০ | এবং নিত্য নতুন টুলস। |
Martin C. Libicki তথ্য-যুদ্ধকে নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত করেন:
- নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রনমূলক তথ্য-যুদ্ধ (Command & Control Warfare)।
- জ্ঞান ভিত্তিক তথ্য-যুদ্ধ (Intelligence Based Warfare)।
- ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ (Electronic Warfare)।
- মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ (Psychological Warfare)।
- হ্যাকার যুদ্ধ (Hacker Warfare)।
- অর্থনৈতিক যুদ্ধ (Economics Warfare)।
- সাইবার যুদ্ধ (Cyber Warfare)।
নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রনমূলক তথ্য-যুদ্ধ (Command & Control Warfare): এই তথ্য-যুদ্ধটিকে সংক্ষেপে “C2Warfare” বলা হয়ে থাকে। সাইবার নিরাপত্তার জগতে একটি শব্দ আছে তা হচ্ছে, “Compromised System”, এই শব্দটির খাটি বাংলা করলে হয় “আপোসপ্রাপ্ত সিস্টেম” আসলে সাইবার নিরাপত্তার জগতে “Compromised System” বলতে বুঝায় যে কম্পিউটার সিস্টেম কোন হ্যাকার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে মোদ্দা কথা যে কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক হয়েছে তাকে “Compromised System” বলা হয়ে থাকে।
“C2Warfare” এ একজন হ্যাকার এই ধরনের “Compromised System” ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা গ্রহন করে থাকে।
জ্ঞান ভিত্তিক তথ্য-যুদ্ধ (Intelligence Based Warfare): এই যুদ্ধে সেন্সর ভিত্তিক প্রযুক্তি (Sensor-Based Technology) ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
Martin C. Libicki বলেন:
জ্ঞান বা বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক তথ্য যুদ্ধ হচ্ছে সেই সকল সিস্টেমের মধ্যকার যুদ্ধ যে সিস্টেমগুলির প্রস্তুতপ্রনালী, সুরক্ষা এবং সিস্টেম বর্জনের জন্য পর্যাপ্ত জ্ঞান ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং এই জ্ঞান ভিত্তক সিস্টেমগুলি প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
নোট: মূলত এই জ্ঞান ভিত্তিক সিস্টেম আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা AI।
ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ (Electronic Warfare):
Martin C. Libicki বলেন:
ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য দুই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে,
(১) রেডিও ইলেক্ট্রনিক (Radio-Electronic),
(২) ক্রিপ্টোগ্রাফিক (Cryptographic), প্রযুক্তি ।
রেডিও ইলেক্ট্রনিক প্রযুক্তি সিস্টেমের তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক অবকাঠামোকে আক্রমন করে থাকে অন্যদিকে ক্রিপ্টোগ্রাফিক (Cryptographic) প্রযুক্তি সিস্টেমের বিট (bit) এবং বাইট (byte) স্তরে আক্রমন করে থাকে।
মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ (Psychological Warfare): এই ধরনের যুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারনা, গুজব, এমন কোন ঘটনা এমনভাবে বর্ণনা করা হয় যা ঘটেনি কিন্তু তার প্রভাব মারাত্নক হতে পারে ইত্যাদি ছড়ান হয়ে থাকে।
যেমন: সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে বিভিন্ন গুজব ছড়ান।
হ্যাকার যুদ্ধ (Hacker Warfare): তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক বা একধিক হ্যাকার এই ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এই ধরনের যুদ্ধের বিভিন্ন ধরনগুলি হলো:
- সিস্টেম বন্ধ করে ফেলা,
- ভুল উপাত্ত প্রক্রিয়া করা,
- তথ্য চুরি করা,
- সার্ভিস চুরি করা,
- অগোচরে সিস্টেম পর্যবেক্ষণ,
- মিথ্যা বার্তা,
- উপাত্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, ইত্যাদি।
এবং হ্যাকার এখানে যেসকল অস্ত্র ব্যবহার করে তা হলো:
- ভাইরাস (Virus),
- লজিক বম্ব (Logic Bomb),
- ট্রোজান হর্স (Trojan Horse),
- স্নাইফার (Snifer), ইত্যাদি।
অর্থনৈতিক যুদ্ধ (Economics Warfare): তথ্য বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে, অর্থনৈতিক তথ্য তার মধ্যে একটি ধরন। কোন প্রতিষ্ঠানের ফাইনান্সিয়াল স্টেটমেন্ট অর্থনৈতিক তথ্যের একটি উদাহরন।
সাধারনত বড় এবং গুরুত্বপুর্ন ব্যবসার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক তথ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। এই তথ্যের জন্য বা এই তথ্য ব্যবহার করে যে যুদ্ধ তাই অর্থনৈতিক যুদ্ধ।
Martin C. Libicki বলেন:
অর্থনৈতিক তথ্য যুদ্ধ কোন একটি প্রতিষ্ঠান বা কোন দেশ বা কোন জাতিকে বিভৎসভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে। এবং এই বিভৎসতা বেশী লক্ষ্য করা যায় ডিজিটাল পণ্য কেনা বেচার ক্ষেত্রে।
সাইবার যুদ্ধ (Cyber Warfare): Martin C. Libicki এর মতে এটাই সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। যেখানে প্রত্যক্ষভাবে তথ্য-প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এবং এই যুদ্ধ ব্যক্তি পর্যায় হতে গ্রুপ পর্যায়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। এই যুদ্ধের বিভিন্ন রূপ রয়েছে, যেমন:
- তথ্য-সন্ত্রাস (Information Terrorism),
- সিমেন্টিক আক্রমন (Semantic Attack), এই যুদ্ধ অনেকটা হ্যাকার যুদ্ধের মতো কিন্তু পার্থক্য হলো, এখানে সিস্টেমের কোন ক্ষতি সাধন করা হয় না।
- সিমিউল যুদ্ধ (Simula Warfare), এটা অনেকটা কৃত্রিম যুদ্ধ। যেমন: অস্ত্র ব্যবসার ক্ষেত্রে, অস্ত্রের বিভিন্ন ভিডিও প্রদর্শন করে ক্রেতা-বিক্রেতা বাণিজ্য করে থাকে।
উপরের যতগুলি তথ্য যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে তা মূলত দুই ভাগে বিভক্ত:
- আত্নরক্ষামূলক (Defensive),
- আক্রমনাত্নক (Offensive)।
আত্নরক্ষামূলক (Defensive): এক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি তার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহি: শত্রুর হাত থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকে।
আক্রমনাত্নক (Offensive): এক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের তথ্য পরিসম্পদকে আক্রমন করা হয়ে থাকে।

