ইথিক্যাল হ্যাকিং (Ethical Hacking) প্রাথমিক ধারনা এবং কিছু কথা।
ইথিক্যাল হ্যাকিং (Ethical Hacking)
বর্তমান যুগে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর যে সকর শব্দ আছে তার মধ্যে অন্যতম একটি শব্দ হচ্ছে হ্যাকিং (Hacking) এবং হ্যাকার (Hacker)।
আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে আমরা বলার চেষ্টা করব :
- হ্যাকিং (Hacking) কি?
- হ্যাকার (Hacker) কাদের বলা হয়ে থাকে?
- হ্যাকারের বিভিন্ন প্রকারভেদ।
- হ্যাকিং এর বিভিন্ন পর্যায়।
ইথিক্যাল হ্যাকিং সম্পর্কে পরিপূর্ন ধারনা পেতে হ্যাকিং (Hacking) সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা থাকতে হবে।
হ্যাকিং (Hacking) কি?
কম্পিউটার এবং কম্পিউটার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হ্যাকিং (Hacking) বলতে বুঝাায় কম্পিউটার এবং কম্পিউটার সিস্টেমের বিভিন্ন জানা অথবা অজানা নিরাপত্তার দুর্বলতা, ত্রুটি, বাগ (Bug) ইত্যাদি ব্যবহার করে সম্পূর্ন বা আংশিকভাবে ওই কম্পিউটার বা কম্পিউটার সিস্টেমের অভ্যন্তরে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠাপূর্বক এত অবস্থিত বিভন্ন তথ্য অবৈধভাবে ব্যবহার, চুরি, হস্তান্তর, পরিবর্তন, পরিবর্ধন করা।
হ্যাকিং (Hacking) উদ্দেশ্য?
- রাষ্ট্র অথবা কোন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার এবং কম্পিউটার সিস্টেমের গোপন তথ্য চুরি করা।
- প্রতিস্ঠানের মেধাস্বত নষ্ট করা বা চুরি করা।
- গুরুত্বপূর্ন বা গোপন তথ্য প্রকাশ্যে আনার মাধ্যমে রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করা।
- কর্পোরেট গুপ্তচরবৃত্তি।
- কম্পিউটার সিস্টেমকে নিস্ক্রিয় করা বা ধীরগতি সম্পন্ন করে ফেলা।
ইত্যাদি ইত্যাদি
কিভাবে হ্যাকিং (Hacking) করা হয়?
হ্যাকিং এর জন্য একজন হ্যাকার বিভিন্ন সুনিপুন কৌশল ব্যবহার করে থাকে। একটি কৌশল পুরান হলে নতুন আর একটি কৌশল সেই স্থান দখল করে। প্রতিটি কৌশলই কার্যকর হওয়ার এক অদ্ভুদ ক্ষমতা রাখে।
- ম্যালেসিয়াস কোড (Malicious Code) বা ম্যালেসিয়াস নেটওয়ার্ক প্রোগ্রমিং (Malicious Network Programming) ব্যবহার করে।
- সোসাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে।
- ম্যালওয়্যার এটাক (Malware Attack) এর মাধ্যমে।
- ডিডস এ্যাটাকের (DDoS Attack) মাধ্যমে।
- ফিসিং (Phishing) এর মাধ্যমে।
এগুলো ছাড়াও আছে আরও নিত্য নতুন আক্রমন, যা আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করব।
হ্যাকার (Hacker)
কম্পিউটার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একজন হ্যাকার হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে বা যিনি অবৈধভাবে কোন কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেমস, কম্পিউটার নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ পূর্বক সিস্টেমের যেকোন ধরনের ক্ষতিসাধন করে থাকে। যেমন:
- তথ্য চুরি।
- সিস্টেমেরে কর্মক্ষমতা হ্রাস।
- সিস্টেমকে কর্মহীন করা। ইত্যাদি ইত্যাদি।
হ্যাকারের বৈশিস্ট
- অসাধারণ কম্পিউটার দক্ষতা সম্পন্ন।
- কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এব প্রোগ্রামিং এ উচ্চ পর্যায়ের দক্ষতা।
- টার্গেট কম্পিউটার সিস্টেমের যেকোন ধরনের দুর্বলতা খুজে বের করার ক্ষমতা এবং তার উপযুক্ত ব্যবহারের ক্ষমতা।
- শখ এবং ক্লান্তিহীন ভাবে হ্যাকিং দক্ষতা উত্তর উত্তর বৃদ্ধিতে উৎসাহী।
হ্যাকারের শ্রেনীবিভাগ
দক্ষতা এবং কাজের ধরনের উপর ভিত্তি করে হ্যাকারের বিভিন্ন শ্রেনীবিভাগ লক্ষ্য করা যায়।
ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার (Black Hat Hacker):
হ্যাকার মাত্রই কম্পিউটারের ওপর অসাধারণ দক্ষতা আছে এতে কোন সন্দেহ নাই। ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা সর্বদা সাইবার অপরাধের মূল হোতা হয়ে থাকে। তারা বিভিন্ন প্রকার সাইবার অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে।
এদের অপরনাম ক্র্যাকার (Cracker)।
হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার (White Hat Hacker):
এই ধরনের হ্যাকাররা মূলত রাষ্ট্র এবং প্রতিস্ঠানের বিভিন্ন প্রকার নিয়ম কানুন মেনে রাষ্ট্র এবং প্রতিস্ঠানের স্বার্থে, অনুমতিক্রমে কম্পিউটার সিস্টেমের বিভিন্ন প্রকার দুর্বলতা অনুসন্ধান করে হ্যাকিং করে থাকে।
এদের অপরনাম পেনটেষ্টার বা পেনিট্রেশন টেস্টার (Penetration Tester)। বৈধভাবে করা এই ধরনের হ্যাকিংকে পেনিট্রেশন টেস্টিং বলা হয়ে থাকে।
গ্রে হ্যাট হ্যাকার (Gray Hat Hacker):
এই ধরনের হ্যাকাররা মুখোশধারী । এরা যখন যেমন তখন তেমন। কখনও নিজের স্বার্থে ব্ল্যাক হ্যাট বা হোয়াইট হ্যাট।
হ্যাকারদের মূলত এই তিন ধরনে ভাগ করা হয়ে থাকে। এর বাইরে এই একই ধরনের হ্যাকারদের অন্যান্য যে ভাবে বলা হয়ে থাকে:
সুইসাইড হ্যাকার (Suicide Hacker):
এই ধরনের হ্যাকার কোন ধরনের নিয়ম নীতি পরিপালন করে না। তারা হ্যাকিং পরবর্তী কোন শাস্তি নিয়ে ভাবে না। এরা অনেকটা সুইসাইড বোম্বার এর মতো।
স্ক্রীপ্ট কিডি (Script Kiddy):
এরা নতুন হ্যাকার যাদের হ্যাকিং দক্ষতা অনেক কম। এরা মূলত কোন দক্ষ হ্যাকারের বিভিন্ন প্রকার কোড, স্ক্রীপ্ট, টুলস ইত্যাদি ব্যবহার করে আক্রমন করে থাকে। এরা আক্রমন করে মানুষকে বিরক্ত করে মজা পায় আক্রমনের গুনগত মান নিয়ে এদের অতটা চিন্তা ভাবনা নাই।
সাইবার টেররিষ্ট (Cyber Terrorist):
এরাও হ্যাকার তবে এরা তাদের এই দক্ষতা বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ধর্মীয় মতাদর্শ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এরা ছোট, বড়, মাঝারি বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের সাথে জড়িত থাকে।
স্টেট স্পন্সরড হ্যাকার (State Sponsored Hacker):
এরা হোয়াইট হ্যাট হ্যাকারের অন্তর্ভুক্ত। এরা কোন দেশের সরকার কর্তৃক পরিচালিত হ্যাকার। এরা সরকারে স্বার্থে বিভিন্ন কাজ করে থাকে।
হ্যাক্টিভিস্ট (Hacktivist):
এরা নিজস্ব মতামত প্রতিষ্ঠিত করতে এবং সুনাম, খ্যাতি বৃদ্ধি করতে হ্যাকিং করে থাকে।
