ইন্টারনেট এবং ইন্টারনেট সম্পর্কিত || ব্যাংকিং ডিপ্লোমা, আইটি (AIBB IT)
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট আমাদের শিক্ষা, যোগাযোগ, ব্যবসা, বিনোদন এবং দৈনন্দিন কাজের একটি অপরিহার্য অংশ। আমরা প্রতিদিন ওয়েবসাইট দেখি, ইমেইল পাঠাই, অনলাইনে তথ্য খুঁজি, ভিডিও দেখি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করি—এসব কিছুর পেছনে কাজ করে ইন্টারনেটের বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। তবে ইন্টারনেট, World Wide Web, হাইপারটেক্সট, হাইপারলিংক এবং ওয়েব ব্রাউজার—এই শব্দগুলো অনেক সময় একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। এই লেখায় সহজ ভাষায় এসব ধারণা ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে একজন শিক্ষার্থী বা সাধারণ পাঠক ইন্টারনেটের মৌলিক কাঠামো ও ব্যবহার পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন।
ইন্টারনেট এবং ইন্টারনেট সম্পর্কিত: ব্যাংকিং ডিপ্লোমা, আইটি (AIBB IT)
ইন্টারনেট:
ইন্টারনেট হল আন্তঃসংযুক্ত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা যা বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে ইন্টারনেট ভিত্তিক বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান করে থাকে। যেখানে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবহারের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ইন্টারনেট প্রোটোকল স্যুট (TCP/IP) ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ইন্টারনেটের উৎপত্তি ১৯৬০-এর দশকে, যেখানে মার্কিন সামরিক গোষ্ঠী এবং বেসরকারি উদ্যোক্তরা শক্তিশালী, ত্রুটি-সহনশীল এবং বিতরণকৃত কম্পিউটার নেটওয়ার্কের উপর ব্যাপক গবেষণা শুরু করে। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন এই ভিত্তিতে তহবিল প্রদান করে এবং গবেষনাকে তরান্বিত করে, সেইসাথে অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও এই ভিত্তিতে ব্যক্তিগত তহবিল প্রদান করে, যা নতুন নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তির উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণ এবং অনেক নেটওয়ার্কের একীভূতকরণের দিকে পরিচালিত করে।
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইন্টারনেট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে পরিনত হয় যা মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্তমানে পৃথিবীর জনসংখ্যার আনুমানিক অর্ধকের বেশী ইন্টারনেটের বিভিন্ন পরিষেবা ব্যবহার করছে। প্রযুক্তিগত বাস্তবায়ন বা নীতিমালায় ইন্টারনেটের কোনও কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা নেই। ইন্টারনেটের দুটি প্রধান উপকরণ ইন্টারনেট প্রোটোকল (IP:Internet Protool) এবং ডোমেন নাম সিস্টেম (DNS:Domain Name System), যা একটি রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা, ইন্টারনেট কর্পোরেশন ফর অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নাম্বার (আইসিএএনএন) দ্বারা পরিচালিত হয়। মূল প্রোটোকলগুলির (IPv4 এবং IPv6) প্রযুক্তিগত ভিত্তি এবং মান নির্ধারন করেন ইন্টারনেট ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্ক ফোর্স (IETF), যা আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত একটি অলাভজনক সংস্থা।
ইন্টারনেটকে বিভিন্ন নেটওয়ার্কের একটি নেটওয়ার্ক বলা হয়, যা লক্ষ লক্ষ ব্যক্তিগত, পাবলিক, একাডেমিক, ব্যবসায়িক এবং সরকারি নেটওয়ার্ক নিয়ে গঠিত, স্থানীয় থেকে বিশ্বব্যাপী, বিস্তৃত পরিসরের ইলেকট্রনিক এবং অপটিক্যাল নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তির দ্বারা সংযুক্ত।
ইন্টারনেট তথ্য সম্পদ এবং পরিষেবার একটি বিশাল ভান্ডার, যেমন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW: World Wide Web) এর আন্তঃসংযুক্ত হাইপারটেক্সট ডকুমেন্ট এবং ইলেকট্রনিক মেইল সমর্থন করার জন্য অবকাঠামো। বর্তমানে টেলিফোন, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন সহ বেশিরভাগ ঐতিহ্যবাহী যোগাযোগ মাধ্যম ইন্টারনেট দ্বারা পুনর্গঠিত বা পুনর্নির্ধারিত হচ্ছে।
সংবাদপত্র, বই এবং অন্যান্য মুদ্রণ প্রকাশনাকে ওয়েব সাইট এবং ব্লগিংয়ের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে। ইন্টারনেট তাৎক্ষণিকভাবে বার্তাপ্রেরণ, ইন্টারনেট ফোরাম এবং সামাজিক নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে মানুষের সাথে মানুষের মিথস্ক্রিয়ার নতুন রূপগুলিকে ত্বরান্বিত করেছে। খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র এবং ছোট ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই অনলাইন কেনাকাটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইন্টারনেটে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আর্থিক পরিষেবাগুলি সমগ্র বিশ্ব জুড়ে সাপ্লাই-চেইনকে প্রভাবিত করছে।
এটাই হলো ইন্টারনেটের একটি সারমর্ম।
WWW (World Wide Web):
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব, যা সংক্ষেপে WWW নামে পরিচিত এবং সাধারণত ওয়েব নামে ব্যাপক জনপ্রিয়, মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা আন্তঃসংযুক্ত হাইপারটেক্সট ডকুমেন্টের একটি সিস্টেম/ডিরেক্টরি। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ব্যবহার করতে হলে প্রয়োজন একটি ল্যাপটপ/ডেস্কটপ, ইন্টারনেট সংযোগ, এবং একটি ওয়েব ব্রাউজার সফটওয়্যার। এই ওয়েব ব্রাউজারের সাহায্যে ব্যবহরাকারী টেক্সট, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া ধারণকারী ওয়েব সাইটগুলি ভিজিট করে।
ইংরেজ প্রকৌশলী এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানী স্যার টিম বার্নার্স-লি, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক, বর্তমানে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়ামের পরিচালক।
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর কিছু বিষয়:
- মূল কথা: ইন্টারনেট-সংযুক্ত এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে ডকুমেন্ট (ওয়েবপেজ) এবং অন্যান্য মিডিয়া লিঙ্ক (হাইপারলিংক) দ্বারা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে।
- উদ্ভাবক: ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি ১৯৮৯ সালে এর ধারণা দেন এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে এটি তৈরি করেন।
- প্রযুক্তি: এটি HTTP (HyperText Transfer Protocol) এবং HTML (HyperText Markup Language) এর মতো প্রোটোকল ও ভাষা ব্যবহার করে।
- ব্যবহার: ওয়েব ব্রাউজার (যেমন Chrome, Firefox) ব্যবহার করে ইউআরএল (URL) এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও এর তথ্য দেখা যায়।
- ইন্টারনেট থেকে পার্থক্য: ইন্টারনেট হলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের একটি বিশাল কাঠামো, আর WWW হলো সেই ইন্টারনেটের উপর চলা একটি পরিষেবা বা তথ্য-ব্যবস্থা বা ডিরেক্টরি।
Hypertext:
হাইপারটেক্সট (Hypertext) হলো এমন এক ধরনের টেক্সট বা লেখা যেখানে সাধারণ লেখার পাশাপাশি অন্যান্য তথ্য বা ডকুমেন্টের সাথে লিঙ্ক (হাইপারলিঙ্ক) থাকে, যা ক্লিক করলে ব্যবহারকারীকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা ভিন্ন ডকুমেন্টে নিয়ে যায়, হাইপারটেক্সট মূলত ইন্টারনেট ও ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত হয়, যেমন HTML (Hypertext Markup Language) একটি হাইপারটেক্সট এর মাধ্যমে ওয়েবপেজ তৈরি হয়, যা টেক্সট, ছবি ও ভিডিওকে আন্তঃসংযুক্ত করে। শুধুমাত্র ওয়েবসাইটেই না হাইপারটেক্সট কম্পিউটার বা অন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে প্রদর্শিত টেক্সট এর জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। হাইপারটেক্সট ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কাঠামো মূল ধারণা।
হাইপারটেক্সট (Hypertext) এর কিছু বিষয়:
- লিঙ্কড টেক্সট: এটি সাধারণ লেখার মতো রৈখিক নয়, বরং এখানে ক্লিকযোগ্য শব্দ বা বাক্য থাকে।
- আন্তঃসংযোগ: হাইপারলিঙ্কের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবপেজ, ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য ডেটা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে।
- ব্যবহার: ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) হাইপারটেক্সট ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে HTTP (Hypertext Transfer Protocol) ডেটা আদান-প্রদান করে।
- উদাহরণ: আপনি যখন কোনো ওয়েবসাইটে কোনো নীল রঙের লিঙ্কে ক্লিক করেন, তখন আপনি হাইপারটেক্সট ব্যবহার করছেন।
হাইপারলিঙ্ক (Hyperlink):
হাইপারলিংক (Hyperlink) বাংলায় অর্থ হলো এমন একটি লিঙ্ক বা সংযোগ যা ক্লিক করলে আপনাকে অন্য কোনো ডকুমেন্ট, ওয়েবসাইট বা ফাইলের নির্দিষ্ট অংশে নিয়ে যায়। এটি লেখা (টেক্সট), ছবি বা যেকোনো অবজেক্ট হতে পারে এবং ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজার ও নেভিগেট করার একটি অপরিহার্য অংশ। একে বাংলায় “অতিলিঙ্ক”, “সংযোগ” বা “লিঙ্ক” হিসেবেও বোঝানো হয়।
সংজ্ঞা: এটি একটি ডেটার রেফারেন্স যা পাঠক মাউস দিয়ে ক্লিক করলে একটি সম্পূর্ণ ডকুমেন্টের অন্য অংশে বা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ডকুমেন্টে যেতে পারে।
উদাহরণ: একটি ওয়েবসাইটের কোনো নীল রঙের লেখায় ক্লিক করলে নতুন একটি পেজ খুলে যাওয়া, বা কোনো ছবিতে ক্লিক করলে ভিন্ন একটি পেজ বা ভিডিও চালু হওয়া।
হাইপারটেক্সট: যে লেখায় হাইপারলিংক যুক্ত করা হয়, তাকে হাইপারটেক্সট বলে।
হাইপারলিংক কিভাবে কাজ করে?
HTML: এটি HTML কোড ব্যবহার করে তৈরি করা হয়, যা একটি ওয়েব পেজকে অন্য পেজের সাথে সংযুক্ত করে।
ক্লিক করা: মাউস কার্সার হাইপারলিংকের উপর আনলে এটি সাধারণত হাতের মতো (হ্যান্ড আইকন) দেখায় এবং ক্লিক করলে লিঙ্কটি সক্রিয় হয়।
ওয়েব ব্রাউজার (Web Browser):
ওয়েব ব্রাউজার বা ইন্টারনেট ব্রাউজার হল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের সাথে সংযুক্ত হওয়ার জন্য একটি সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন। যদিও ব্রাউজারগুলি মূলত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব অ্যাক্সেস করার উদ্দেশ্যে তৈরি, তবে ওয়েব ব্রাউজার ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কে ওয়েব সার্ভার বা ফাইল সিস্টেমে ফাইল দ্বারা প্রদত্ত তথ্য অ্যাক্সেস করার জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে।
ওয়েব ব্রাউজার মূলত সফটওয়্যার, ইন্টারনেট থেকে তথ্য (যেমন: ওয়েবসাইট, ছবি, ভিডিও) খুঁজে বের করে ডিভাইসে প্রদর্শন করে, HTTP (Hypertext Transfer Protocol) ব্যবহার করে সার্ভার থেকে ডেটা নিয়ে আসে এবং সহজে লিংকের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যেতে সাহায্য কর। জনপ্রিয় ব্রাউজার গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স, সাফারি ইত্যাদি ।
ওয়েব ব্রাউজারের কিছু বিষয়:
- সংজ্ঞা: এটি একটি অ্যাপ্লিকেশন যা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) বা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে থাকা যেকোনো রিসোর্স (যেমন: ওয়েবপেইজ, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি) অ্যাক্সেস করতে, দেখতে এবং ডাউনলোড করতে সাহায্য করে।
- কাজ করার পদ্ধতি: যখন একটি URL (ওয়েবসাইটের ঠিকানা) টাইপ করা হয়, ব্রাউজার সার্ভার থেকে সেই ওয়েবসাইটের ফাইলগুলো (HTML, CSS, JavaScript) নিয়ে আসে এবং সেগুলোকে ব্যবহারকারীর স্ক্রিনে একটি বোধগম্য ওয়েবপেইজ হিসেবে প্রদর্শন করে।
কিছু জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার:
- গুগল ক্রোম (Google Chrome): সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দ্রুততম ব্রাউজারগুলোর মধ্যে একটি।
- মজিলা ফায়ারফক্স (Mozilla Firefox): গোপনীয়তা (privacy) ও নিরাপত্তার জন্য পরিচিত।
- মাইক্রোসফট এজ (Microsoft Edge): উইন্ডোজের সাথে ডিফল্টভাবে আসে এবং এতে এআই ফিচার যুক্ত হচ্ছে।
- অ্যাপল সাফারি (Apple Safari): অ্যাপল ডিভাইসের জন্য তৈরি।
- ওপেরা (Opera): এতে বিল্ট-ইন ভিপিএন ও অ্যাড ব্লকার থাকে।
ব্রাউজারের মূল কাজ:
- ওয়েবসাইটে নেভিগেট করা (URL টাইপ করা বা লিঙ্কে ক্লিক করা)।
- ট্যাব ব্যবহার করে একাধিক পেজ খোলা রাখা।
- বুকমার্ক তৈরি করা।
- ক্যাশ ও কুকিজ পরিচালনা করা (যা ওয়েব সাইটের লোডিং স্পিড বাড়ায়)।
সহজ ভাষায়, ওয়েব ব্রাউজার হলো ইন্টারনেট দুনিয়ার দরজা, যা ইন্টারনেটে বিভিন্ন তথ্য ও বিনোদনের জগতে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।
উপসংহার:
ইন্টারনেট আধুনিক বিশ্বের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রবাহের ভিত্তি। এটি শুধু কয়েকটি কম্পিউটারের সংযোগ নয়; বরং ব্যক্তিগত, সরকারি, ব্যবসায়িক, শিক্ষাবিষয়ক এবং গবেষণামূলক অসংখ্য নেটওয়ার্কের সমন্বিত কাঠামো। World Wide Web ইন্টারনেটের ওপর চলা একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা, যেখানে ওয়েবপেজ, হাইপারটেক্সট ও হাইপারলিংকের মাধ্যমে তথ্য একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ওয়েব ব্রাউজার সেই তথ্য ব্যবহারকারীর সামনে সহজভাবে প্রদর্শন করে। তাই ইন্টারনেটকে ভালোভাবে বুঝতে হলে WWW, Hypertext, Hyperlink এবং Web Browser-এর ভূমিকা জানা জরুরি। এসব মৌলিক ধারণা পরিষ্কার থাকলে অনলাইন জগৎকে আরও নিরাপদ, কার্যকর এবং সচেতনভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
FAQ / সাধারণ প্রশ্নোত্তর:
ইন্টারনেট কী?
ইন্টারনেট হলো বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত কম্পিউটার নেটওয়ার্কের একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তথ্য, যোগাযোগ ও বিভিন্ন অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যায়।
ইন্টারনেট কীভাবে কাজ করে?
ইন্টারনেট বিভিন্ন ডিভাইস, সার্ভার ও নেটওয়ার্ককে TCP/IP-এর মতো প্রোটোকলের মাধ্যমে সংযুক্ত করে। ব্যবহারকারী কোনো ওয়েবসাইটে গেলে ব্রাউজার সার্ভার থেকে তথ্য এনে স্ক্রিনে দেখায়।
World Wide Web বা WWW কী?
WWW হলো ইন্টারনেটের ওপর চলা একটি তথ্যভিত্তিক সেবা, যেখানে ওয়েবপেজগুলো হাইপারলিংকের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
ইন্টারনেট ও WWW কি একই জিনিস?
না। ইন্টারনেট হলো মূল নেটওয়ার্ক কাঠামো, আর WWW হলো সেই ইন্টারনেটের ওপর ব্যবহৃত একটি সেবা বা তথ্য-ব্যবস্থা।
হাইপারটেক্সট কী?
হাইপারটেক্সট হলো এমন লেখা যেখানে ক্লিকযোগ্য লিঙ্ক থাকে। এই লিঙ্ক ব্যবহারকারীকে অন্য পেজ, ডকুমেন্ট বা তথ্যের কাছে নিয়ে যেতে পারে।
হাইপারলিংক কী?
হাইপারলিংক হলো ক্লিকযোগ্য সংযোগ, যা কোনো টেক্সট, ছবি বা অবজেক্টের মাধ্যমে অন্য ওয়েবপেজ, ফাইল বা ডকুমেন্টে নিয়ে যায়।
ওয়েব ব্রাউজার কী?
ওয়েব ব্রাউজার হলো এমন একটি সফটওয়্যার যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী ওয়েবসাইট দেখতে, তথ্য খুঁজতে এবং অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করতে পারে।
জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজারের উদাহরণ কী কী?
জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজারের মধ্যে Google Chrome, Mozilla Firefox, Microsoft Edge, Apple Safari এবং Opera উল্লেখযোগ্য।
URL কী কাজে লাগে?
URL হলো ওয়েবসাইট বা অনলাইন রিসোর্সের ঠিকানা। ব্রাউজারে URL লিখলে নির্দিষ্ট ওয়েবপেজে প্রবেশ করা যায়।
DNS কী?
DNS বা Domain Name System ডোমেন নামকে সংশ্লিষ্ট IP ঠিকানার সঙ্গে মিলিয়ে দেয়, যাতে ব্যবহারকারী সহজ নাম লিখে ওয়েবসাইটে যেতে পারে।
TCP/IP কেন গুরুত্বপূর্ণ?
TCP/IP হলো ইন্টারনেটের প্রধান প্রোটোকল স্যুট। এটি ডেটা কীভাবে ভাগ হবে, পাঠানো হবে এবং সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাবে তা নিয়ন্ত্রণ করে।
ওয়েব ব্রাউজার কীভাবে ওয়েবপেজ দেখায়?
ব্রাউজার সার্ভার থেকে HTML, CSS ও JavaScript ফাইল সংগ্রহ করে এবং সেগুলোকে ব্যবহারকারীর জন্য দৃশ্যমান ওয়েবপেজ হিসেবে প্রদর্শন করে।
