নিয়ার ডেটা সেন্টার ও ডিজাস্টার রিকভারি সাইট কী? এবং কেন প্রয়োজন? (পর্ব-২)
নিয়ার ডেটা সেন্টার ও ডিজাস্টার রিকভারি:
অনলাইন ব্যাংকিং, ডিজিটাল লেনদেন কিংবা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম—সব ক্ষেত্রেই তথ্য ও আইটি সেবা সচল রাখা জরুরি। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাট, যন্ত্রপাতির ত্রুটি, সাইবার আক্রমণ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মূল ডেটা সেন্টার অচল হয়ে গেলে সেবা ব্যাহত হতে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় নিয়ার ডেটা সেন্টার (Near Data Center বা NDC) এবং ডিজাস্টার রিকভারি সাইট (Disaster Recovery Site বা DRS) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কাছাকাছি অবস্থিত বিকল্প ডেটা সেন্টার দ্রুত ডেটা আদানপ্রদান ও সেবার ধারাবাহিকতায় সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, যথাযথভাবে নির্বাচিত পৃথক স্থানের DRS বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর তথ্য ও সিস্টেম পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেয়। এই আর্টিকেলে নিয়ার ডেটা সেন্টারের কার্যপদ্ধতি, ডিজাস্টার রিকভারি সাইটের ধরন, স্থান নির্বাচনের বিবেচ্য বিষয় এবং ডেটা সেন্টারের প্রধান মানদণ্ড ও সার্টিফিকেশন সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
“ডেটা সেন্টার কী? টায়ার ১-৪ পূর্ণাঙ্গ গাইড (পর্ব-১)” সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন।
নিয়ার ডেটা সেন্টার (NDC: Near Data Center):
নিয়ার ডেটা সেন্টার হলো একই শহরে বা স্থাপিত মূল শহর থেকে একটু দূরের ডেটা সেন্টার। প্রধান ডেটা সেন্টার এবং নিয়ার ডেটা সেন্টারকে কখনও কখনও DC1 এবং DC2 বলা হয়। DC1 এবং DC2 উভয়ই একই রকম হার্ডওয়্যার, অন্যান্য ডিভাইস এবং সফ্টওয়্যার দিয়ে ইনস্টল করা থাকে এবং এ্যাকটিভ- এ্যাকটিভ মোডে সেটআপ করতে হয়। উভয় ডেটা সেন্টারের সমস্ত রিসোর্স ৫০-৫০ লোডে একই সাথে ব্যবহার করা হয়। যদি কোনও কারণে DC1 এবং DC2 এর মধ্যে একটি ডাউন হয়ে যায়, তাহলে অন্যটি কোনও বাধা ছাড়াই একা প্রতিস্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হয় এবং এই অপারেশন স্যুইচিং কার্যক্রমগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে (ব্যাংকের ক্ষেত্রে শাখা, এটিএম এবং অন্যান্য চ্যানেলের ব্যবহারকারীরা পরিষেবার কোনও বাধা অনুভব করবেন না)। DC1 এবং DC2 আইটি কর্মীদের কাছে তাদের মূল আইটি অফিস থেকে ন্যূনতম ভ্রমণের সময় সহজেই অ্যাক্সেসযোগ্য হওয়া উচিত। আইটি অফিস হলো DC1 এবং DC2 ব্যতীত একটি অফিস যেখানে আইটি বিশেষজ্ঞরা বসে সমস্ত আইটি সম্পর্কিত কার্যক্রম সম্পাদন করেন।
ডিজাস্টার রিকভারি সাইট (DRS:Disaster Recovery Site):
ডিজাস্টার রিকভারি সাইট (Disaster Recovery Site) হলো বিকল্প বা দ্বিতীয় স্থান, যেখানে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার অ্যাটাক বা অন্য কোনো বিপর্যয়ের কারণে মূল ডেটা সেন্টার বা অফিস অকেজো হয়ে গেলে প্রতিষ্ঠান তার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, সিস্টেম এবং কার্যক্রম পুনরুদ্ধার ও সচল রাখতে পারে, যা মূলত ব্যবসা ধারাবাহিকতা (Business Continuity) পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি সাধারণত হট, ওয়ার্ম ও কোল্ড সাইট হিসেবে তিন ভাগে বিভক্ত এবং ক্লাউড-ভিত্তিক সমাধানও এক্ষেত্রে জনপ্রিয়, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ন্যূনতম ডাউনটাইম ও ডেটা লস নিশ্চিত করা।
ডিজাস্টার রিকভারি সাইটের প্রকারভেদ:
- কোল্ড সাইট (Cold Site): এটি একটি মৌলিক সুবিধা, যেখানে শুধু পাওয়ার ও নেটওয়ার্কের ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু কোনো সক্রিয় সিস্টেম বা ডেটা থাকে না; পুনরুদ্ধারে বেশি সময় লাগে।
- ওয়ার্ম সাইট (Warm Site): এতে সার্ভার ও নেটওয়ার্কের মতো কিছু হার্ডওয়্যার ও অবকাঠামো আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে, তবে ডেটা পুরোপুরি সিংক্রোনাইজড থাকে না।
- হট সাইট (Hot Site): এটি পুরোপুরি চালু ও আপডেট থাকা একটি বিকল্প স্থান, যেখানে প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে অপারেশন চালু করা যায়, কিন্তু এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল।
- ক্লাউড-ভিত্তিক (Cloud-Based): অনলাইন সার্ভার ও স্টোরেজ ব্যবহার করে, যা নমনীয়তা ও সাশ্রয়ী মূল্য প্রদান করে।
- মোবাইল সাইট (Mobile Site): পোর্টেবল ডেটা সেন্টার যা যেকোনো জায়গায় স্থাপন করা যায়।
কেন প্রয়োজন?
- অবিচ্ছিন্ন কার্যক্রম: মূল স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে কাজ চালিয়ে যাওয়া।
- ডেটা সুরক্ষা: ডেটা হারানো থেকে রক্ষা করা।
- ঝুঁকি হ্রাস: অপ্রত্যাশিত ঘটনার প্রভাব কমানো।
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট:
- ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা তাদের তথ্য নিরাপত্তা ও গ্রাহক সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ডিজাস্টার রিকভারি সাইট স্থাপন করছে, যেমন বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার এন্ড ডিজাস্টার রিকভারি সাইট লিঃ।
- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের কার্যক্রমের আধুনিকায়ন ও তথ্য সুরক্ষার জন্য ঢাকার পিলখানায় ‘সীমান্ত ডাটা সেন্টার’ এবং দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় তথ্য পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি হিসেবে যশোরে একটি ডিজাস্টার রিকভারি সাইট স্থাপন করেছে (সূত্র)।
DC এবং DRS মধ্যে কত দূরত্ব হবে তার জন্য নিম্নলিখিত দুটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন:
- যদি দীর্ঘ দূরত্ব বেছে নেওয়া হয়, তাহলে ডিআরএসের পরিচালনা, ডার্ক ফাইবারের প্রাপ্যতা এবং প্রয়োজনীয় ল্যাটেন্সির প্রাপ্যতা সম্পর্কিত সমস্যা হতে পারে।এছাড়াও সিংক ও রেপ্লিকেশন সম্ভব নাও হতে পারে।
- যদি কম দূরত্ব (কমপক্ষে ২০ কিমি) বেছে নেওয়া হয়, তাহলে ভূমিকম্প, হারিকেনের মতো দুর্যোগ উভয় স্থানকে ধ্বংস করতে পারে।
ডেটা সেন্টারের মানদন্ড (Data Center Standards) এবং সার্টিফিকেশন:
ডেটা সেন্টারের মানদণ্ড ও সার্টিফিকেশন বলতে ডেটা সেন্টারের নকশা, নির্মাণ, পরিচালনা এবং নিরাপত্তার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়মাবলী ও প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যার মধ্যে Uptime Institute-এর টিয়ার সিস্টেম (Tier I-IV), ISO/IEC 27001 (তথ্য নিরাপত্তা), এবং ANSI/TIA-942 (অবকাঠামো) অন্যতম, যা নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করে এবং বিভিন্ন সার্টিফিকেশন যেমন Uptime Institute Tier Certification, ISO 27001, DCOS (Data Center Operations Standard) ইত্যাদি ডেটা সেন্টারের মান যাচাই করে।
প্রধান মানদণ্ড ও সংস্থা:
- Uptime Institute: ডেটা সেন্টার অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতার জন্য টায়ার (Tier) সিস্টেম (Tier I-IV) তৈরি করেছে, যা নকশা ও কার্যকারিতার স্তর নির্ধারণ করে (যেমন Tier IV সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্যতা)।
- ISO/IEC 27001: তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (ISMS) প্রতিষ্ঠার জন্য একটি আন্তর্জাতিক মান, যা সংবেদনশীল তথ্য ব্যবস্থাপনার কাঠামো দেয়।
- ANSI/TIA-942: ডেটা সেন্টার ডিজাইন ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বহুল ব্যবহৃত মান, যা Uptime Institute-এর টিয়ারগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ASHRAE TC9.9: ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত (তাপমাত্রা, আর্দ্রতা) মানদণ্ড নির্ধারণ করে, যা সরঞ্জামের সঠিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য।
- NFPA 75: অগ্নি সুরক্ষা সংক্রান্ত মানদণ্ড, যা আগুন প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দেশনা দেয়।
সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া:
- বিভিন্ন মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে ডেটা সেন্টারগুলি নিরীক্ষিত (audit) হয় এবং নির্দিষ্ট স্তরের সার্টিফিকেশন অর্জন করে।
- Uptime Institute-এর টায়ার সার্টিফিকেশন: ডিজাইন ডকুমেন্টেশন, নির্মিত অবকাঠামো, অপারেশনাল কোয়ালিটি এবং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে Tiers I-IV পর্যন্ত সার্টিফিকেশন প্রদান করে।
- ISO 27001 সার্টিফিকেশন: তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্য এই সার্টিফিকেশন প্রয়োজন হয়, যা সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
- DCOS (Data Center Operations Standard): ISO মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি অপারেশনাল স্ট্যান্ডার্ড, যা ধাপে ধাপে ডেটা সেন্টার পরিচালনা উন্নত করতে সাহায্য করে।
সার্টিফিকেশনর গুরুত্ব:
- এই মানদণ্ড ও সার্টিফিকেশন ডেটা সেন্টারের নির্ভরযোগ্যতা, প্রাপ্যতা (availability) এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
- ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা (business continuity) রক্ষা করে এবং আর্থিক ও সুনামগত ঝুঁকি হ্রাস করে।
- নিয়ন্ত্রক এবং ব্যবসাযয়িক সম্মতি (compliance) পূরণে সহায়তা করে।
উপসংহার:
নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সেবা গড়ে তুলতে মূল ডেটা সেন্টারের পাশাপাশি বিকল্প অবকাঠামো ও পরীক্ষিত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রয়োজন। নিয়ার ডেটা সেন্টার দ্রুত সেবা স্থানান্তরে সহায়তা করতে পারে, আর ভৌগোলিকভাবে পৃথক DRS একই দুর্যোগে একাধিক সাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে শুধু বিকল্প সাইট থাকলেই সেবা সচল থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই; পর্যাপ্ত সক্ষমতা, উপযুক্ত রেপ্লিকেশন, নিরাপদ ব্যাকআপ এবং নিয়মিত মহড়া প্রয়োজন।
তাই প্রতিষ্ঠানকে গ্রহণযোগ্য ডাউনটাইম ও ডেটা হারানোর সীমা নির্ধারণ করে RTO ও RPO অনুযায়ী সমাধান বেছে নিতে হবে। পাশাপাশি সনদের ধরন ও আওতা যাচাই, কর্মীদের প্রস্তুতি এবং পুনরুদ্ধার পদ্ধতির নিয়মিত পরীক্ষা ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সহায়তা করবে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা:
১। নিয়ার ডেটা সেন্টার কী?
মূল ডেটা সেন্টারের কাছাকাছি স্থাপিত বিকল্প ডেটা সেন্টারকে এই আর্টিকেলে নিয়ার ডেটা সেন্টার বলা হয়েছে। এটি কম ল্যাটেন্সিতে ডেটা আদানপ্রদান ও সেবার ধারাবাহিকতায় সহায়তা করতে পারে। এখানে NDC বলতে Near Data Center বোঝানো হয়েছে, National Data Center নয়।
২। নিয়ার ডেটা সেন্টার ও DRS এর পার্থক্য কী?
নিয়ার ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রে মূল সাইটের নৈকট্য গুরুত্বপূর্ণ। DRS-এর মূল উদ্দেশ্য বিপর্যয়ের পর সেবা পুনরুদ্ধার। কাছের সাইটকে পুনরুদ্ধারের কাজে ব্যবহার করা গেলেও একই দুর্যোগে উভয় সাইট আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনা করতে হয়।
৩। সব নিয়ার ডেটা সেন্টার কি অ্যাকটিভ অ্যাকটিভ হতে হয়?
না। ব্যবসায়িক চাহিদা ও সিস্টেমের নকশা অনুযায়ী অ্যাকটিভ অ্যাকটিভ বা অ্যাকটিভ প্যাসিভ ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়। ৫০–৫০ লোড বণ্টন বাধ্যতামূলক নয়; একটি সাইট বন্ধ হলে অন্যটির প্রয়োজনীয় কাজ সামলানোর সক্ষমতা থাকতে হবে।
৪। হট ওয়ার্ম ও কোল্ড সাইটের পার্থক্য কী?
হট সাইটে প্রয়োজনীয় সিস্টেম ও ডেটা তুলনামূলক বেশি প্রস্তুত থাকে, ফলে দ্রুত সেবা পুনরুদ্ধার সম্ভব। ওয়ার্ম সাইট আংশিক প্রস্তুত থাকে। কোল্ড সাইটে মূলত স্থান ও মৌলিক অবকাঠামো থাকে, তাই সিস্টেম স্থাপন ও ডেটা ফেরাতে বেশি সময় লাগে।
৫। RTO ও RPO কী?
RTO হলো বিঘ্নের পর সেবা ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সময়। RPO হলো সময়ের হিসাবে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য ডেটা হারানোর সীমা। যেমন RPO ১৫ মিনিট হলে সর্বশেষ ১৫ মিনিটের ডেটা হারানোর সম্ভাবনা মেনে পরিকল্পনা করা হয়।
৬। মূল ডেটা সেন্টার থেকে DRS কত দূরে থাকা উচিত?
সবার জন্য একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব প্রযোজ্য নয়। দুর্যোগের বিস্তৃতি, বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্কের স্বাধীনতা, ল্যাটেন্সি, রেপ্লিকেশন পদ্ধতি এবং প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা দেখে স্থান বেছে নিতে হয়। শুধু দূরত্ব দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না।
৭। রেপ্লিকেশন থাকলে কি আলাদা ব্যাকআপ প্রয়োজন?
হ্যাঁ। ভুল করে মুছে ফেলা বা ক্ষতিগ্রস্ত ডেটাও অন্য সাইটে রেপ্লিকেট হতে পারে। তাই পৃথকভাবে সুরক্ষিত ব্যাকআপ, আগের অবস্থায় ফেরার সুবিধা এবং নিয়মিত রিস্টোর পরীক্ষা প্রয়োজন।
৮। টিয়ার সনদ থাকলেই কি তথ্য পুরোপুরি নিরাপদ?
না। Uptime Institute-এর টিয়ার শ্রেণিবিন্যাস মূলত সাইট অবকাঠামোর সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতার বিষয়। সাইবার নিরাপত্তা, অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ, ব্যাকআপ এবং তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আলাদাভাবে নিশ্চিত করতে হয়।
মনে রাখা ভাল:
অ্যাকটিভ অ্যাকটিভ ও লোড বণ্টন:
সব নিয়ার ডেটা সেন্টারে একই হার্ডওয়্যার, অ্যাকটিভ অ্যাকটিভ ব্যবস্থা বা ৫০–৫০ লোড বাধ্যতামূলক নয়।
দূরত্ব ও রেপ্লিকেশন:
সবক্ষেত্রে ২০ কি:মি: সর্বজনীন ন্যূনতম দূরত্ব নয়। সিঙ্ক্রোনাস রেপ্লিকেশনে ল্যাটেন্সির সীমাবদ্ধতা বাড়তে পারে; অ্যাসিঙ্ক্রোনাস পদ্ধতি একটি বিকল্প।
নিরবচ্ছিন্ন সেবার দাবি:
স্বয়ংক্রিয় সুইচিং বা হট সাইট থাকলেই ব্যবহারকারী কোনো বাধা অনুভব করবেন না—সবসময় এমনটা নয়। ফলাফল অ্যাপ্লিকেশন, নেটওয়ার্ক, ডেটার সামঞ্জস্য ও পরীক্ষিত ফেইলওভারের ওপর নির্ভর করে।
মানদণ্ড ও সার্টিফিকেশন:
Uptime Tier এবং ANSI/TIA-942 আলাদা মূল্যায়ন কাঠামো; একটির সনদ অন্যটির সমতুল্য নয়। ISO/IEC 27001 তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মান; এটি নিরাপত্তা ঘটনার সম্পূর্ণ অনুপস্থিতির নিশ্চয়তা নয়।
সহায়ক তথ্যসূত্র:
Uptime Institute — Tier Classification System
Microsoft Learn — Disaster recovery
AWS — Recovery strategies and backup limitations
